ইরানে মার্কিন দূতাবাসে ৫২ জিম্মি উদ্ধারে ব্যর্থ অভিযান

১৯৭৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ইমাম আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনীর নেতৃত্বে ইরানে ইসলামী বিপ্লবে মোহাম্মাদ রেজা শাহ পাহলভী ক্ষমতা হারান। ওই বছরের নভেম্বরে তেহরানের একদল উগ্রপন্থী ছাত্র মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালিয়ে ৫২ জন মার্কিন নাগরিককে জিম্মি করে। এতে ইরানের সঙ্গে আমেরিকা কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে।

তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে জিম্মি
তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে জিম্মি

জিমি কার্টার তখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। আমেরিকার পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশনে তখন সারাক্ষণ জিম্মি সংকটের সংবাদ। সংকটের সুরাহা করতে না পারায় প্রেসিডেন্ট কার্টার তখন প্রচন্ড সমালোচনার মুখে। কার্টার প্রশাসনের উপর চাপ বাড়ে জিম্মি উদ্ধারে কিছু করার।

ভারতে অবস্থানের আরও এক বছর অনুমতি পেল তসলিমা নাসরিন

সংকট শুরুর পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর গোপন কমান্ডো দল ডেলটা ফোর্সকে প্রস্তুত হতে বলা হয়। অনেক রকম পরিকল্পনা করা হচ্ছিল কিন্তু সমস্যা একটাই তেহরান পর্যন্ত পৌঁছাতে প্রয়োজন দীর্ঘ বিমান যাত্রার। মার্কিন সামরিক বাহিনী শেষ পর্যন্ত দুঃসাহসিক ও জটিল এক পরিকল্পনা নেয়। মার্কিন কমান্ডো দল সামরিক পরিবহন বিমান সি১৩০তে চড়ে ইরানের দুর্গম এক মরুভূমিতে নামবে। বিমানের সঙ্গে থাকবে হেলিকপ্টার।

বাংলাদেশে লোহার খনি

পরে তেহরানের কাছাকাছি আরেকটি মরুভূমিতে গিয়ে একদিন লুকিয়ে থাকবে। রাতে একটা গাড়িতে করে দূতাবাসের সীমানার দেয়াল পর্যন্ত যাবে। দেয়ালের সঙ্গে মই বেয়ে ও দড়ি ধরে ঝুলে দূতাবাসের ভিতরে প্রবেশ করবে। এরপর একটা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দেয়াল ভাঙ্গা করা হবে। জিম্মিদের বের করে পাশের একটি স্টেডিয়াম থেকে হেলিকপ্টারে নিয়ে আসা হবে। এভাবেই পুরো অভিযানের পরিকল্পনাটি সাজানো হয়।

বিপাকে বলিউড অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর

তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে জিম্মি
তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে জিম্মি

১৯৮০ সালের ২৪ এপ্রিল রাতে ডেল্টা ফোর্সের ‘অপারেশন ঈগল ক্ল’ নামে অভিযান শুরু হয়। ছয়টি বিশাল সি১৩০ সামরিক পরিবহন বিমান আকাশে উড়ল। তাদের প্রথম গন্তব্য ইরানের মরুভূমিতে নামার পরেই অভিযান বিপদের মুখে পড়ে। পাশেই রাস্তা দিয়ে ছুটে আসে একটা বাস। বাসটিতে থাকা ৪৫ জন যাত্রীকে সৈন্যরা জিম্মি করে। জিম্মি উদ্ধারে এসে উল্টো জিম্মি করতে হল। কমান্ডোরা পরিকল্পনা করেন, বাসটা লুকিয়ে জিম্মিদের ওমানে নিয়ে যাবে।

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে রাখাইনকে বাংলাদেশের অংশ করার প্রস্তাব

তারপর ইরানে ফেরত পাঠাবে। রাস্তার দুইপাশ বন্ধে দুটি দল পাঠানো হল। কিন্তু একটি দল দেখল আরও গাড়ি আসছে। সামনেরটি তেলের ট্যাংকার। সেটিতে রকেট ছুঁড়লে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের সঙ্গে আকাশে আগুনের কুন্ডলী। এদিকে সমস্যার শেষ এখানেই নয়। পরিবহণ বিমানের সাথে যেসব হেলিকপ্টার আসছিল সেগুলোর দুটো বিকল হয়ে গেল। হাইড্রোলিক সমস্যা দেখা দেয় আরেকটিতে।

মার্কিন দূতাবাসে জিম্মি
মার্কিন দূতাবাসে জিম্মি

এই অভিযান সফল করার জন্য কমপক্ষে ছয়টি হেলিকপ্টার দরকার ছিল। কিন্তু এখন মাত্র পাঁচটি হেলিকপ্টার। এই পরিস্থিতির কথা হোয়াইট হাউসকে জানালে, প্রেসিডেন্ট কার্টার তখন নির্দেশ দিলেন এই অভিযান আপাতত বন্ধ রাখার। কমান্ডো সদস্যরা মরুভূমিতে তাদের অভিযানের নিশানা মুছে ফেলে পরিবহন বিমানে করে ফেরত যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেন। তাদের পরিকল্পনা ছিল ৪৮ ঘন্টা পর আবারো অভিযানের চেষ্টা চালাবেন।

সিনেমার গানেরও মিমি চক্রবর্তী

এদিকে হেলিকপ্টারের বাতাসে মরুভূমির প্রচন্ড ধুলায় হেলিকপ্টারের পাইলট নিয়ন্ত্রণ হারালে প্রচন্ড বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত হয়। পাশের পরিবহন বিমানেও আগুন লাগে। বিমানের ভেতরের নানা অস্ত্র ও গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটতে থাকে। ভেতরে থাকা একটা গ্রাউন্ড টু এয়ার মিসাইলে আগুন ধরলে তা বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে বিমান ছিন্ন করে আকাশে চলে গেল। এই ঘটনায় মার্কিন কমান্ডো দলের আট সদস্য নিহত হন। বাকি সদস্যরা অন্য পরিবহন বিমানগুলোতে চড়ে আকাশে উড়লেন। ব্যর্থ কামান্ডো অভিযানে নিহত ৮ সদস্যদের দেহ পড়ে রইল ইরানের দুর্গম এক মরুভূমিতে। জিম্মি উদ্ধারের দুঃসাহসিক অভিযানটি একটা গুলি ছোঁড়ার আগেই এভাবেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ল।

তেলেগু ভাষায় মেঘলা মুক্তার দ্বিতীয় ছবি

সামরিক অভিযানে ব্যর্থ হয়ে জিম্মি মুক্তির বিষয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসে আমেরিকা। ১৯৮১ সালের ‘আলজিয়ার্স চুক্তি’র মাধ্যমে জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত করে। তেহরানের মার্কিন দূতাবাসের জিম্মিরা ৪৪৪ দিন বন্দিদশায় থাকার অবশেষে মুক্তি পান। 

সম্পাদনা: সানজাদুল ইসলাম। সূত্র: বিবিসি

আয়রনম্যান আরাফাতের গল্প

বিশ্বের সংবাদদেশের সংবাদ, আর রাজনীতি, অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিফিচারবিনোদন আর খেলাধুলার সর্বশেষ বাংলা সংবাদ পড়তে লাইক করুন প্রবাসী টিভি’র Facebook পেজ আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube Channel.

Related Posts